সম্পাদকীয়


সম্পাদকীয়

সাহিত্যের ক্ষেত্রে একজন লেখক তার গল্প বা উপন্যাস বা প্রবন্ধ যেকোনোভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। কারণ তাকে কোনো প্রকার সময়ের বাঁধনে আটপকে থাকতে হয় না। জবাবদিহিতা করতে হয়না। অপরদিকে একজন সাংবাদিক এর জবাদিহিতার পাশাপাশি অত্যন্ত দ্রুত একটি ঘটনা পাঠকদের কাছে উপস্থাপন করতে হয়। কারণ বর্তমানে মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে এবং এই ব্যস্ত মানুষেরা অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে কোনো ঘটনার মূল বিষয়টি জানতে চান। এ জন্য অনলাইন ভিত্তিক সংবাদপত্র গুলি হলো সংবাদের প্রাণ।

সাধারণত সংবাদ লেখার সময় কিছু নিয়ম মেনে লিখতে হয। যেমন তথ্য গুরুত্বানুসারে সাজানো, সূচনা, সূচনার বিস্তার, পটভূমি, প্রধান খুঁটিনাটি বিষয়, অন্যান্য। এছাড়া যেকোনো সংবাদ পড়তে গিয়ে পাঠকের মনে প্রথমেই কিছু প্রশ্নের উদয হয়। যেমন কে, কী, কোথায়, কখন, কেন এবং কীভাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতুরাং সংবাদ লেখার সময় সংবাদের সূচনা থেকে শেষ পর্যন্ত এমনভাবে লিখতে হবে যাতে সংবাদ পাঠের মাধ্যমে পাঠক সকল প্রশ্নের পেয়ে যায়।

তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে খবরের বর্ণনা গুরিথে ছন্দময় গতি থাকতে হবে। শিরোনাম থেকে শুরু অর্থাৎ সুচনাটা হতে হবে চমৎকার ভঙ্গিতে। খবরের মাঝখানে পাঠক যেন ঝিমিয়ে না পড়ে সেজন্য বক্তব্যেও চমক ও রচনাশৈলীর থাকতে হবে। আর শেষ প্যারায় থাকবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ()। পাঠক উদ্দীপ্ত করতে হবে।

এর বাহিরে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ বিবরণ এ ধরনের রিপোর্টিংয়ে থাকা জরুরি।সংবাদ প্রতিবেদনের রয়েছে চারটি প্রয়োজনীয় কাঠামো। এগুলো হচ্ছে- ক. টাইটেল/হেডলাইন বা শিরোনাম, খ. সূচনা, গ. বর্ণনা বা বিবরণ, ঘ. উপসংহার বা সমাপ্তি।প্রতিবেদন লেখার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ দিকঃ প্রতিবেদন লেখা বস্তুত এক ধরনের গাইডেড রাইটিং। এ জন্য এ ধরনের লেখার সময় প্রতিবেদককে প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে। লেখার বৈশিষ্ট্য হবে ঘষামাজা, মাপজোক করা। উচ্ছ্বাস-আবেগ, অতিকথন, দুর্বোধ্যতা ইত্যাদি যেন প্রতিবেদনকে প্রভাবিত না করে বা মান ক্ষুণ্ন না করে সে বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে।শিরোনামঃ শিরোনাম বা হেডলাইন সহজে বোধগম্য এবং আকর্ষক হলে ভালো হয়। তবে শিরোনাম কখনো কখনো কিছুটা দুর্বোধ্য কিংবা বিভ্রান্তিকর মনে হলেও মূল প্রতিবেদন পড়ার পর পুরো ব্যাপারটা বোঝা যায়। এ ধরনের দুর্বোধ্যতার মূল কারণ শিরোনামের সংক্ষিপ্ততা। একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘রুশী নিখোঁজ, হামজা সন্ধানে’। শিরোনাম দেখে প্রথম ধারণায় রুশীকে একজন মেয়ে এবং হামজাকে একটি সন্ধানকারী ছেলে মনে হতে পারে। আসলে তা নয়। চাঁদপুরের ভাটিতে ঝড়ে ডুবে গিয়েছিল ‘রুশী’ নামের লঞ্চ। সেটাকেই খোঁজার জন্য পাঠানো হয়েছিল উদ্ধাকারী জাহাজ ‘হামজা’কে।সূচনাঃ প্রারম্ভেই প্রতিবেদন তৈরির স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হয়। প্রতিবেদকের নামও উল্লেখ্য। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নামও লিখতে হবে। এবং তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণও তুলে ধরতে হবে। সূচনা সংক্ষিপ্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে আবশ্যক হলে তা বড়ও হতে পারে।বিবরণ বা বর্ণনাঃ এটাই রিপোর্টিংয়ের মূল জিনিস। সূচনায় বর্ণিত বিষয়ের মোটামুটি বিস্তারিত বিবরণ থাকবে এতে। কেন ব্যাপারটা ঘটল, কীভাবে ঘটল এবং তার ফলাফল কী দাঁড়াল, তাও বর্ণিত হবে এখানে।উপসংহার বা শেষ কথাঃ বর্ণিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কী করা উচিত বা কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভালো হয়, তা থাকবে উপসংহারে। বিভিন্ন মনোযোগ আকর্ষণকারী উদ্ধৃতি, সরস উক্তি ইত্যাদি সচরাচর উপসংহার হিসেবে ব্যবহূত হয়ে থাকে।ভাষাঃ রিপোর্ট বা প্রতিবেদনের ভাষা যাতে সহজবোধ্য হয় অর্থাৎ সাধারণ মানুষের জন্য যাতে তা বোধগম্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘটনা ও তথ্যাবলি পরসপর সংলগ্ন হতে হবে। প্রতিবেদন লেখার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে ব্যবহূত এবং বহুল পরিচিত শব্দাবলির ব্যবহার প্রচলিত আছে।বিষয়বস্তুর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এসব শব্দ ব্যবহার করলে পাঠকেরা সহজেই তা বুঝতে পারবেন এবং বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করবেন। লেট লতিফ, সট্রিট রোমিও এমন দু-একটি শব্দ।প্রতিবেদনকে আকর্ষণীয় করার জন্য প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য ও মতামত সরাসরি তুলে ধরা যায়। তবে প্রতিবেদকের নিজস্ব মতামত বা অনুভূতি রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য কোথাও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার উল্লেখ থাকতে পারে। বক্তব্যকে আকর্ষণীয় করার জন্যও একই শব্দ ব্যবহারের একঘেয়েমি কাটাতে সমার্থক শব্দ ব্যবহার করলে ভালো হয়।সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক বিষয়াদি, বস্তিবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান, ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাস, বৃদ্ধাশ্রমের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক, বড় পরিবারে ভাঙন, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও করণীয় ইত্যাকার যে কোনো বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন লেখা যেতে পারে।

Go to top